April 30, 2026, 4:05 pm

বরিশাল অঞ্চলের ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষিযোদ্ধাগণ

বরিশাল অঞ্চলের ৪ লাখ হেক্টরের বোরো ধান নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষিযোদ্ধাগণ

বিপ্লবী ডেস্ক ॥
রবি মৌসুমের শেষভাগে এসে ডিজেলের কৃত্রিম সংকটে বরিশাল অঞ্চলের প্রায় ৪ লাখ হেক্টর বোরো ধানে সেচ নিয়ে দুর্ভাবনায় কৃষিযোদ্ধাগণ -ইনকিলাব প্রায় ১৪ লাখ টন খাদ্য উদ্বৃত্ত বরিশাল কৃষি অঞ্চলে চলমান জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটে আবাদকৃত প্রায় ৪ লাখ হেক্টরে বোরো ধানের সেচ ব্যবস্থা নিয়ে কৃষকের মাঝে নানামুখী সংশয় ও উদ্বেগ বাড়ছে। যদিও এখনো মাঠ পর্যায়ে ডিজেল সংকট তেমন প্রকট আকার ধারণ করেনি, কিন্তু সুদূর পল্লী এলাকায় সরবরাহ পরিপূর্ণ স্বাভাবিক নয়। সেচব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে জ্বালানি সরবরাহে এখনো প্রশাসনিক পদক্ষেপসহ নজরদারি খুব জোরালো না হলেও গত দুদিন বরিশালের বিভাগ ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে একাধিক সভা করে সুদূর পল্লী এলাকা পর্যন্ত ডিজেল সরবরাহ নির্বিঘ্ন করা সহ যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিতকরণে নজরদারি শুরু করেছে। বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মাহফুজুর রহমান মঙ্গলবারও সব জেলা প্রশাসকদের সাথে কথা বলে মাঠ পর্যায়ের খোঁজখবর নিয়েছেন। পাশাপাশি পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণসহ সার্বক্ষণিকভাবে নজরদারিরও তাগিদ দিয়েছেন। চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ৩ লাখ ৮৩ হাজার হেক্টরে বোরো আবাদ লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৮ ভাগ ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে বোরো রোপণ লক্ষ্যমাত্রার শতভাগ অর্জিত হবার পাশাপাশি লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে বলেও আশাবাদী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর-ডিএই’র দায়িত্বশীল মহল। ফলে এবার বোরো ধান থেকে বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১৮ লাখ টন চাল পাবার ব্যাপারে আশাবাদী মাঠ পর্যায়ের কৃষিবীদগণও। ঘধমধফ অফ বিগত খরিপ-২ মৌসুমে আমন থেকে এ অঞ্চলে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল কৃষকের ঘরে উঠেছে। বর্তমানে এ অঞ্চলের মাঠে আরো প্রায় ৫৮ হাজার
হেক্টরে গম রয়েছে, যা থেকে আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যেই প্রায় ২ লাখ টন গম কৃষকের ঘরে উঠবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে মাঠে শুধু বোরো ধানের সেচাবাদে বর্তমানে যে প্রায় ৮৭ হাজার পাওয়ার পাম্প চলমান রয়েছে, তার প্রায় ৭৫ হাজারই ডিজেল চালিত। এসব পাম্পে গড়ে দৈনিক ৫ লক্ষাধিক লিটার ডিজেল প্রয়োজন। এ সরবরাহ ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখার পাশাপাশি সুষ্ঠু বিতরণ অব্যাহত রাখাই এখন সরকারসহ স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন কৃষিবীদগণ। তবে কৃষিবীদদের মতে আগামী দু মাস ডিজেলের সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখার মাধ্যমে ১৮ লাখ টন বোরো চাল ঘরে তোলার কোন বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত সচিব মাহফুজুর রহমানের সাথে আলাপ করা হলে তিনি জানান, ডিজেলের কোন ঘাটতি নেই। সরবরাহ এখনো অক্ষুণ্ণ ও নির্বিঘ্ন রয়েছে। তবে এর পরেও কেউ কোন ধরনের অন্তরায় তৈরি করলে প্রশাসন কঠোরভাবে তা মোকাবেলা করবে। অপরদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. নজরুল ইসলাম সিকদার জানিয়েছেন, আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বোরো আবাদের শেষ সময়সীমা নির্ধারিত রয়েছে। বরিশাল কৃষি অঞ্চলের কৃষিযোদ্ধাগণ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে। তবে সেচব্যবস্থা অক্ষুণ্ণ রাখার লক্ষ্যে যা প্রয়োজন সবই করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। তাঁর মতে, চলতি রবি মৌসুমে এখনো বৃষ্টির কিছুটা ঘাটতি রয়েছে বরিশাল অঞ্চলে। টানা ১২৭ দিন পরে গত ৯ মার্চই প্রথম সামান্য বৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দিকে যেসব বোরো রোপণ হয়েছে তা এখন থোড় পর্যায়ে। তবে এখনো রোপণ অব্যাহত রয়েছে। সে হিসেবে আগামী দুমাস সেচ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কোন বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি। আর সে লক্ষ্যে ডিজেল ও সারসহ সব উপকরণের সরবরাহ অক্ষুণ্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখার ওপরও জোর দেন এ কৃষিবীদ। পাশাপাশি দক্ষিণাঞ্চলের সেচ ব্যবস্থা সোলার ও বিদ্যুতায়িত করার তাগিদ দিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষিবীদগণ। সারা দেশের মধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলেই এখনো সেচ ব্যবস্থা প্রায় পরিপূর্ণভাবেই ডিজেল নির্ভর, যা ব্যয়বহুল। ফলে এ অঞ্চলের কৃষকের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। কৃষিবীদদের মতে ডিজেল সেচ ব্যবস্থা এখনো যথেষ্ট ব্যয়বহুল—মোট উৎপাদন ব্যয়ের প্রায় ২৯ ভাগ। উল্লেখ্য, সেচকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ওপর সরকার ২০০৩ সাল থেকে ২০ ভাগ ভর্তুকি দিয়ে আসছে। অথচ ব্যয়বহুল ডিজেলে তা এখনো অনুপস্থিত।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © All rights reserved © 2024 DailyBiplobiBangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com